মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১২ জুন ২০১৭

কৃষি গবেষণার অর্জন


কৃষি গবেষণার অর্জন


Agriculture Wing Achievement
ক) পাটের কৃষি গবেষণা অর্জিত অগ্রগতিঃ দেশের কৃষি পরিবেশ ও কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট। প্রতি হেক্টরে নির্ধারিত সময়ে অধিক, উন্নত মানের পাট এবং এ জাতীয় ফসলের আঁশ উৎপাদন, প্রান্তিক এবং অপ্রচলিত (লবনাক্ত, পাহাড়ী, চরাঞ্চল) জমিতে আবাদোপযোগী উন্নত দেশী, তোষা, কেনাফ ও মেস্তা জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে দেশে পাট আবাদী জমির পরিমাণ কম এবং ক্রমাগত প্রান্তিক, নিকৃষ্ট জমিতে পাট আবাদ স্থানান্তরিত হলেও জাতীয় গড় উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

ক্রমাগত জমির জৈব উপাদানের ঘাটতি, জমির উর্বরতা শক্তির ক্রম হ্রাসকে মোকাবিলা করার জন্য প্রচলিত মাত্রায় সার ব্যবহারের পরিবর্তে জাত ও জমি ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সারের মাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে এবং হচেছ। একাদিক্রমে এক ধরনের ফসল আবাদ করে জমির পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করা এবং একই ধরনের রোগ বালাইয়ের প্রাচুর্য দমন করার জন্য ফসল ক্রমের উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। ফসল নিবিড়তা বৃদ্ধি করে প্রতি হেক্টর জমিতে অধিক ফসল ফলানো ও মুনাফা অর্জনের জন্য কৃষক পর্যায়ে পাট ভিত্তিক শস্য পর্যায়ক্রম উদ্ভাবন এবং প্রয়োগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে পাট পচনের সময় প্রায় সকল পাট আবাদী এলাকায় পানির তীব্র অভাব দেখা দেয়। ফলে কৃষক উন্নত জাতের পাট উৎপাদন করলেও পচন পানির অভাবে নিম্নমানের পাট উৎপাদিত ও বাজারজাত হচেছ। এ অবস্থা নিরসনকল্পে স্থানোপযোগী এবং স্বল্প পানিতে পচানোর জন্য উন্নত পাট পচন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। সরাসরি পাট গাছ পচানো, পাটের ছাল পৃথক করে পচানো এবং একান্তই পানি না থাকলে বা উৎপাদন অধিক হলে পৃথককৃত পাটের কাচাঁ ছাল শুকিয়ে সংরক্ষন এবং পরবর্তী সময়ে তা পচিয়ে উন্নত আঁশ উৎপাদন প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করা হয়েছে। পাটের পোকা মাকড় দমনে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ বান্ধব উদ্ভিজ্জ বা দেশজ প্রাকৃতি কীটনাশক ব্যবহার কৌশল এবং কীটনাশক উদ্ভাবন করা হয়েছে।

কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত পাট বীজের সংরক্ষন পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং কৃষকদের সে পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পাট বীজের জন্য পর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে স্বল্পাকারে কৃষক পর্যায়ে পাট বীজ উৎপাদন পদ্ধতি ও নাবী পাট বীজ উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে।

সর্বোপরি পাট চাষাবাদ লাভজনক করা এবং পরিবেশ বান্ধব এ আঁশ ফসলের আবাদ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এ পর্যন্ত পাট এবং পাট জাতীয় ফসলের ৪৫টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশি পাট ২৪টি, তোষা পাট ১৫টি, কেনাফ ৪টি ও মেস্তা ২টি। উক্ত ৪৫টি জাতের মধ্যে বর্তমানে ৯টি দেশী, ৬টি তোষা, ৩টি কেনাফ এবং ২টি মেস্তা জাতের বূজ বানিিজ্যক ভাবে উৎপাদিত ও আবাদ হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাট, বিশেষ করে কেনাফ ও মেস্তা জার্মপ্লাজম সংগ্রহ এবং তা মূল্যায়ন করে উত্তরোত্তর পাট এবং এ জাতীয় আঁশ ফসল উন্নয়ন প্রচেষ্টা চলছে। এর ফলে প্রতিকুল অবস্থা সত্ত্বেও জাতীয় গড় পাট আঁশ উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

বিজেআরআই উদ্ভাবিত ও জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ছাড়কৃত ৪৫টি দেশী পাট, তোষা পাট, কেনাফ ও মেস্তার উচচ ফলনশীল জাতের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য জাতসমুহের বর্ণনা নিম্নে উপস্থাপন করা হইল।

 

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটঃ পাট, কেনাফ ও মেস্তার উদ্ভাবিত জাত সমুহের পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য

ফসল/জাত

অবমুক্ত সন

উৎপাদনের মৌসুম

বপন সময়

 ফলন (টন/হেঃ)

জীবনকাল

(দিন)  

বৈশিষ্ট্য

১) বিজেআরআই উদ্ভাবিত দেশী পাট  (Corchorus capsularis L. )

১) ডি-১৫৪-২

১৯৬১

খরিফ-১

১৫ চৈত্র-৩০ চৈত্র

২.২৪

১২০-১৩০

গাছের কান্ড ও পাতা ঘন সবুজ, পাতার আকার ডিম্বাকৃতি, দৈর্ঘ-প্রস্থের অনুপাত 2:1। বোঁটার উপরিভাগ হাল্কা তামাটে। অন্যান্য জাতের চেয়ে কান্ডের গোড়া অপেক্ষাকৃত মোটা। পরিণত বয়সে কান্ডের আগায় ও ডালে তামাটে রঙ দেখা দেয়।

২) সিভিএল-১

১৯৭৭

খরিফ-১

১৫ চৈত্র-১৫ বৈশাখ

২.৪৬

১২০-১৩০

কান্ড সম্পূর্ণ সবুজ এবং পাতাও আকর্ষণীয় সবুজ ও বর্শাফলাকৃতি, উচচ ফলনশীল, সর্বাধিক জনপ্রিয় জাত।

৩) সিভিই-৩

১৯৭৭

খরিফ-১

১৫ চৈত্র-৩০ চৈত্র

১.৯৭

১০৫-১১০

এ জাতের কান্ড সম্পূর্ণ সবুজ কিন্তু পাতার বোটার উপরি ভাগ উজ্জল তামাটে রঙ দেখা যায়। পরিণত বয়সে গাছের ডালে তামাটে রঙ দেখা যায়। পাতা হাল্কা সবুজ, সিভিএল-১ এর চেয়ে সরু, ছোট ও বর্শাফলাকৃতি ।

৪) সিসি-৪৫

১৯৭৯

খরিফ-১

১ ফাল্গুন-১৫ বৈশাখ

২.৪৯

১৩৫-১৮০

আগাম বপনোপযোগী, কান্ড সবুজ, পাতা চওড়া উজ্জ্বল সবুজ ও ডিম্বাকৃতি, বোঁটার উপরিভাগে হাল্কা তামাটে রঙ থাকে।এ গাছে ফুল আসতে ১৫০ দিনের অধিক সময় লাগে।

৫) বিজেআরআই দেশী  পাট-৫ (বিজেসি-৭৩৭০)

১৯৯৫

খরিফ-১

১চৈত্র - ১ বৈশাখ

২.৪৫

১০৫-১১৫

আশু বপনোপযোগী, গাছের কান্ড সবুজ, পাতার বোঁটার উপরিভাগ হাল্কা তামাটে রঙ। পাতার আকার সিভিএল-১ এর মতো তবে তার চেয়ে ছোট।

৬) বিজেআরআই দেশী  পাট-৬ (বিজেসি-৮৩)

১৯৯৫

খরিফ-১

১৫ চৈত্র-১৫ বৈশাখ

২.১২

৯৫-১০০

গাছ সম্পূর্ণ সবুজ। আশু পরিপক্ক, পাতা সিভিএল-১ জাতের চেয়ে সরু ও পাতার ফলকের কিনারা ঢেউ খোলানো। বপনের ৯০-৯৫ দিনে ফুল আসে। তে-ফসলি শস্যক্রমের জন্য খুবই উপযোগী।

৭) বিজেআরআই দেশী  পাট-৭ (বিজেসি-২১৪২)

২০০৮

খরিফ-১

১ চৈত্র-১ বৈশাখ

২.৫০

১০০-১১০

গাছ সম্পূর্ণ সবুজ। পাতার আকৃতি লেন্সিওলেট(বল্লম আকৃতি), বীজের রঙ নীল, অন্যান্য দেশী জাতের চেয়ে ভিন্ন। আঁশ উজ্জ্বল সাদা বর্ণের, ফলে ব্লিচিং খরচ কম। আলু চাষের জমিতে এ জাত বপন না করাই শ্রেয়ঃ।

৮) বিজেআরআই দেশী পাট-৮ (বিজেসি-২১৯৭)

২০১৩

খরিফ-১

১৫ চৈত্র-১৫ বৈশাখ

৩.০০

১১০-১১৫

এ জাতটি দ্রুত বর্ধনশীল, মৃদু লবণাক্ততা সহিষ্ণু ও মোজাইক রোগ প্রতিরোধী। কান্ড হাল্কা লাল, পাতা লম্বা ও বল্লম আকৃতি, পাতার বোঁটার উপরিভাগ উজ্জ্বল তামাটে লাল এবং নিম্নভাগে বোঁটা ও ফলকের সংযোগ স্থলে আংটির মত গাঢ় লাল রংয়ের গোল দাগ আছে।

৯) বিজেআরআই দেশী পাট শাক-১ (বিজেসি-৩৯০)

২০১৪

খরিফ-১ ও

খরিফ-২

১৫ ফাল্গুন-১৫ ভাদ্র

শাকঃ ৩.০০-৩.৫০

পাতাঃ ৩৫-৪৫

ফুলঃ ৪৫-৬০

গাছ সম্পূর্ণ সবুজ, ঝোপালো ও খর্বাকৃতির, কান্ড হালকা সবুজ ও শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট। পাতা বর্শা ফলাকৃতির ও গাঢ় সবুজ রঙের। পাতা মিষ্টি ও সুস্বাদু।

২) বিজেআরআই উদ্ভাবিত তোষা পাট (Corchorus olitorius L.)

১) ও-৪

১৯৬৭

খরিফ-১

১ বৈশাখ-

৩০ বৈশাখ

২.৩২

১২০-১৩৫

গাছ সম্পূর্ণ সবুজ, পাতা সরু, হাল্কা সবুজ। উঁচু জমিতে বপনযোগ্য, বীজের রঙ নীলাভ সবুজ, উচচ ফলনশীল জাত।

২) ও-৯৮৯৭

১৯৮৭

খরিফ-১

১ চৈত্র -

১৫ বৈশাখ

২.৭৩

১২০-১৫০

গাছ সম্পূর্ণ সবুজ, আগাম বপনযোগ্য, পাতা লম্বা, চওড়া বর্শাফলাকৃতির, গোড়ার দিক থেকে হঠাৎ মাথার দিক সরু হয়ে থাকে। বীজের রঙ সবুজ নীলাভ। উচচ ফলনশীল জাত। বীজের আকার ও-৪ জাতের চেয়ে ছোট।

৩) ওএম-১

১৯৯৫

খরিফ-১

২৫ ফাল্গুন-

৩০ বৈশাখ

২.৪৯

১২০-১৫০

গাছ সম্পূর্ণ সবুজ, আলোক সংবেদনশীলতা কম, আগাম বপনযোগ্য, আঁশ উন্নতমানের, পাতার আকার তুলনামুলকভাবে বেশ বড় এবং ডিম্বাকৃতির, পাতার উপরিপৃষ্ঠ উজ্জ্বল চকচকে। বীজের রঙ গাঢ় খয়েরি, উচচফলনশীল জাত।

৪) বিজেআরআই তোষা পাট-৪     (ও-৭২)

২০০২

খরিফ-১

১ চৈত্র -

১৫ বৈশাখ

২.৯২

১২০-১৪০

গাছ সম্পূর্ণ সবুজ, দ্রুত বর্ধনশীল, পাতা ডিম্বাকৃতি ও হাল্কা সবুজ, বীজের রঙ নীলাভ সবুজ, আগাম বপনযোগ্য।

৫) বিজেআরআই   তোষা পাট-৫

   (ও-৭৯৫)

    (লাল তোষা)

২০০৮

খরিফ-১

১৫ চৈত্র -         ১৫ বৈশাখ

৩.০০

১২০-১৩০

গাছ লম্বা, মসৃণ, দ্রুত বর্ধনশীল, কান্ড লাল বা লালচে, পাতার বোঁটার উপর অংশ তামাটে লাল, উপপত্র স্পষ্ট লাল, পাতা লম্বা ও চওড়া, বীজের রঙ নীল, আঁশের রঙ উজ্জল সোনালী।

৬) বিজেআরআই   তোষা পাট-৬

    (ও-৩৮২০)

২০১৩

খরিফ-১

১৬ই চৈত্র-       ১লা জ্যৈষ্ঠ

৩.৫০

১৩০-১৩৫

এ জাতটি আলোক সংবেদনশীল, গাছ সম্পূর্ণ সবুজ, পাতা লম্বা ও বল্লমাকৃতি। বীজের রং নীলাভ সবুজ, নাবীতে বপনোপযোগী, দ্রুত বর্ধনশীল, আগাম পরিপক্ক উচচ ফলনশীল। আঁশের মান ভাল এবং রং  উজ্জ্বল সোনালী।

৩) বিজেআরআই উদ্ভাবিত কেনাফ (Hibiscus cannabinus L.)

১) এইচসি-২

১৯৭৭

খরিফ-১

১ চৈত্র-

১৫ বৈশাখ

৩.৩৫

১২৫-১৫৫

কান্ড সবুজ আগার দিকে তামাটে লাল, কান্ড ও পাতায় রোম আছে, ফল ডিম্বাকৃতি, বীজ তিন কোণাকৃতি ধুসর বর্ণের। পাতা সবুজ এবং অখন্ড, পরিণত পাতার কিনারায় তামাটে লাল ছোপ থাকে। উঁচু নিচু সব জমিতেই বপন উপযোগী, দ্রুত বর্ধনশীল ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু। আঁশ উজ্জল। অধিক বায়োমাস সম্পূর্ণ এবং কাগজের মন্ড তৈরীর উপযোগী। ফুলের রঙ ক্রীম রঙ এর ভেতরে গাঢ় খয়েরী রঙ, উচচফলনশীল।

২) এইচসি-৯৫

১৯৯৫

খরিফ-১

১৬ চৈত্র-

৩০ বৈশাখ

৩.৪৫

১৫০-১৬০

গাছ আকর্ষণীয় সবুজ, পাতা উজ্জ্বল সবুজ ও করতলাকৃতি। ফল ডিম্বাকৃতি, কান্ডে ও পাতায় হাল্কা রোম আছে। কেনাফ-এইচসি-২ এর চেয়ে অধিক বায়োমাস সম্পূর্ণ। আঁশ উজ্জ্বল। উঁচু, নিচু ও মাঝারি সব জমিতেই বপনোপযোগী। জলাবদ্ধতা সহনশীল। ফুলের রঙ ক্রীম রঙ এর ভিতরে হাল্কা হলুদ।

৩) বিজেআরআই

    কেনাফ-৩

   (বট কেনাফ)

২০১০

খরিফ-১

১লা চৈত্র-      ৩০ বৈশাখ

৩.৫০

১৫০-১৬০

কান্ড সবুজ, কান্ডের আগার দিকে অনেক উপপত্র থাকে এবং আগার দিকটা অপেক্ষাকৃত মোটা, পরিণত বয়সে সূর্য্যের আলোতে কান্ড হাল্কা তামাটে রঙ ধারন করতে পারে। কান্ড, পাতা ও ফল অল্প কাটা ও রোম আছে। পাতা অখন্ড, বট পাতার ন্যায়। দ্রুত বর্ধনশীল, দীর্ঘ বপনকাল, জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু, অধিক ফলনশীল ও বায়োমাস সম্পন। উঁচু, নীচু, পাহাড়ী, চরাঞ্চল ও উপকুলীয় অঞ্চলে বপনোপযোগী। ফুলের রঙ হাল্কা ক্রীম রঙের মাঝখানে গাঢ় খায়েরী রঙ। ফল ডিম্বাকৃতি, বীজ তিন কোনাকৃতি ধুসর বর্ণের।

৩) বিজেআরআই

    কেনাফ-৪

   (লাল কেনাফ)

২০১৭

খরিফ-১

১লা চৈত্র-      ৩০ বৈশাখ

৩.৬০

১৪৫-১৫৫

কান্ড লাল, পাতার রঙ খয়েরি সবুজ ও করতলাকৃতি এবং পাতার বোঁটার উপরিভাগ লাল রঙ। দ্রুত বর্ধনশীল,  দীর্ঘ বপনকাল, জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু, অধিক ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা কেনাফের অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশী। আঁশের মান ভাল এবং রং মাখন সাদা। চরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে বপন উপযোগী। ফুলের রঙ হাল্কা ক্রীম রঙের মাঝখানে গাঢ় খায়েরী রঙ। ফল ডিম্বাকৃতি, বীজ তিন কোনাকৃতি ধুসর বর্ণের।

৪) বিজেআরআই উদ্ভাবিত মেস্তা (Hibiscus sabdariffa L.)

  ১)   এইচএস-২৪

১৯৭৭

খরিফ-১

১ চৈত্র- ৩০ বৈশাখ

২.৮৫

১৮০-২১০

কান্ড গাঢ় কালচে সবুজ, পর্বে বেগুণী ছোপ, কান্ডের গায়ে ঘন রোম আছে। পাতা করতলাকৃতি গাঢ় সবুজ, ফুল হাল্কা হলদে রঙের ভেতরে মাঝখানে লালচে খয়েরী রঙের কেনাফের চেয়ে ছোট আকারের হয়ে থাকে। মেস্তার ফল ডিম্বাকৃতি ও শীর্ষভাগ সরু। ফলের রঙ লালচে দাগসহ হাল্কা সবুজ। বীজ কিডনি আকারের ও হাল্কা খয়েরি রঙ। এ জতটি নেমাটোড প্রতিরোধী। উঁচু, মাঝারি-উঁচু, খরা পীড়িত চর এলাকার পতিত বেলে জমিতে বপনযোগ্য।

২)বিজেআরআই মেস্তা- ২

(সব্জী মেস্তা)

২০১০

খরিফ-১

১লা চৈত্র-     ৩০শে জ্যৈষ্ঠ

পাতাঃ ৬.০০-৭.০০

বৃতিঃ ২.০-২.৫০

১৮০-২১০

কান্ড তামাটে রঙের। পাতা ও বৃতি টক  ও সুস্বাদু। পাতা ও বৃতি তরকারী রান্না করে খাওয়া যায়। বৃতি দিয়ে জেলি, জুস, জ্যাম, আচার ইত্যাদি কনফেকশনারী খাদ্য সামগ্রী তৈরী করা যায় এবং টক রান্না করে খাওয়া যায়। কান্ড, পাতা ও ফলে কাটা ও রোম নাই। উঁচু, মাঝারী-উঁচু জমিতে এবং বাড়ীর আঙ্গিনায় চাষ করা যায়। পাতা খন্ডিত, ফুল ক্রীম রঙ এর ভিতরে গাঢ় খয়েরী রঙের। ফল গাঢ় লাল। ফল থেকে বৃতি সংগ্রহ করে খাওয়া যায়। খরা সহনশীল ও নেমাটোড প্রতিরোধী। জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। বীজ থেকে ২০% খাবার তেল পাওয়া যায়।

                 

 

 

 

৯।  জাতভিত্তিক সারের মাত্র নিরূপন-১৯৮০

 

 ক) জাতঃডি-১৫৪,  সিভিএল-১, সিভিই-৩, ও-৪

১০০+২৫+৪৫+১১কেজি/হেক্টর,ইউরিয়া/টিএসপি/এমপি/   বপনের দিন।

 

 ) জাতঃ ও-৯৮৯৭

২০০+৫০+১০+৪৫+১১কেজি/হেক্টর ইউরিয়া/টিএসপি/ এমপি/ জিপসাম /জিংক সালফেট বপনের দিন 

গ) এইচএসঃ ২৪

১০০+২৫+৩০, ইউরিয়া/ টিএসপি/এমপি কেজি/হেক্টর

 

 ঘ) এইচসি-৯৫

১৩০+২৫+৩০, ইউরিয়া/ টিএসপি/এমপি কেজি/হেক্টর

 

 ঙ) ওএম-১

১৭৫+৫০+৪০+১০০, ইউরিয়া/টিএসপি/এমপি/জিপসাম কেজি/হেক্টর 

১০। নাবী পাট বীজ চাষে ফাল্গুনী তোষা

 জাতের সারের মাত্রা নিরূপন-১৯৯৬

 

১০০+৭৫+১০০, ইউরিয়া/ টিএসপি/ এমপি/ জিপসাম কেজি/ হেক্টর

 

১১।সারের প্রয়োগ পদ্ধতি ও সময়

       ১৯৯১

আঁশ ফলনের জন্য ইউরিয়া সার দুই ভাগে প্রয়োগ করতে হয় এবং অন্যান্য সার বপনের সময় দিতে হবে। নাবী বীজে ইউরিয়া সার তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। টিএসপি, এমপি এবং নাবী বীজে ইউরিয়া সার তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। টিএসপি, এমপি এবং অন্যান্য সার বপনের সময় দিতে হবে।

 

 

  জাতভিত্তিক সারের মাত্রা ২০০২ পর্যমত :

 

   জৈব সারবিহীন

 

ক)  জাত : ডি-১৫৪, সিভিএল-১, সিভিই-৩ ও তোষাজাত ও-৪ 

১৬৬ + ২৫ + ৩০ + ৪৫ + ১১ কেজি/হেক্টর, ইউরিয়া/ টিএসপি/এমপি/ জিপসাম/জিংক সালফেট।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

খ)  ও- ৯৮৯৭

২০০ + ৫০ + ৬০ + ৯৫ + ১১ কেজি/ হেক্টর, ইউরিয়া/ টিএসপি/ এমপি/ জিপসাম/ জিংক সালফেট।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

গ)  ওএম- ১

১৭৬ + ৫০ + ৪০ + ৯৫ + ১১ কেজি/ হেক্টর, ইউরিয়া/ টিএসপি/ এমপি/ জিপসাম/ জিংক সালফেট

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

ঘ)  ও- ৭২

১৬৬ + ৫০ + ৮০ + ১০০ কেজি/ হেক্টর,

 ইউরিয়া/ টিএসপি/ এমপি/ জিপসাম।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

ঙ)  কেনাফ: এইচ সি- ৯৫

১৩২ + ২৫ + ৪০ কেজি/ হেক্টর,

 ইউরিয়া/ টিএসপি/এমপি।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

চ)  মেস্তা : এইচএস- ২৪

১১০ + ২৫ + ৩০ কেজি/ হেক্টর ইউরিয়া- টিএসপি- এমপি

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

 

(ii) জৈব সারসহ (গোবর সার) : 

 

ক)  জাত : ডি- ১৫৪, সিভিএল-১, সিভিই- ৩ এবং তোষাজাত ও- ৪ 

 ১১৫  কেজি/হেক্টর, ইউরিয়া অন্যান্য সারের প্রয়োজন নাই।

 

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

খ)  ও- ৯৮৯৭

১৪৫+১০+৫০ কেজি/হেক্টর,ইউরিয়া/এমপি/ জিপসাম

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

গ)  ওএম- ১

১২০ + ৫০  কেজি/ হেক্টর, ইউরিয়া/জিপসাম

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

ঘ)  ও- ৭২

১১০+৩০+১০০ কেজি/হেক্টর,ইউরিয়া/এমপি/জিপসাম

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

ঙ)  কেনাফ: এইচ সি- ৯৫

৭৭ কেজি/হেক্টর ইউরিয়া অন্যান্য সারের প্রয়োজন নাই

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

চ)  মেস্তা : এইচ এস- ২৪

৫৫ কেজি/হেক্টর ইউরিয়া অন্যান্য সারের প্রয়োজন নাই  

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

 

নাবী পাট বীজ (জাত : - ৯৮৯৭) :  

 

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা

(কেজি/হেক্টর)

সারের মাত্রা (কেজি/হেক্টর) :

 

ইউরিয়া

টিএসপি

এমপি

জিপসাম

জিংক সালফেট

বোরাক্স

 

উচচ ফলন (৬০০-৯০০)

২০০

১০০

৪০

১০০

২২

১০

 

মধ্যম ফলন (৪০০-৬০০)

১১০

৭৫

২০

১০০

-

-

 

নিম্ন ফলন (২৫০-৪০০)

৫০

২৫

২০

-

-

-

 

 ১৩।  রসুনের পেষ্ট দ্বারা বীজ শোধন-১৯৮৪

 পাট বীজ শোধনে ও চারা মোড়ক রোগ দমনে ব্যবহার। ১২৫ গ্রাম রসুনের পেষ্ট/১০০০ গ্রাম বীজ।

-

 

১৪। রোগ  দমনে ব্যবহৃত ছত্রাক নাশকের মুল্যায়ন ১৯৭৮

 পাট বীজ শোধনে ভিটাভেকা্র ২০০ (০.৮%) এবং বিভিন্ন প্রকার ছত্রাক দমনে ছত্রাক নাশক ডাইমেন এম-৪৫, পাটের শিকড়ে গিট রোগ দমনে একটি নিমাটিসাইড ফুরাডান (৫জি) ও লীফ মোজাইক দমনে কার্যকরী ১টি কীটনাশক (ডায়াজিনন) ব্যবহারের অনুমোদন।

-

 

১৫। ভেষজ উদ্ভিদের দ্বারা বীজ শোধন ১৯৮৪

পাট বীজ শোধনে ও চারা মড়ক রোগ দমনে কাঁচা রসুন বাটা (১২.৫%) অর্থাৎ ১২৫ গ্রাম জেএম রসুনের পেষ্ট ১ কেজি  বীজের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা।

    -

 

১৬। গিট রোগ দমনে জৈব সার প্রয়োগ ২০০০

পাট ফসলের শিকড়ে গিট রোগ দমনের জন্য জৈব সার যেমন হাঁস মুরগীর বিষ্ঠা (poultry litter) ১০০০ কেজি/হেক্টর দ্বারা মাটি শোধন

-

 

১৭। গিট রোগ দমনে ফাঁদ ফসল এর চাষ       (১৯৭৮-২০০১)

শিকড়ে গিট রোগ দমনের উদ্দেশ্যে মিশ্র ফাঁদ ফসল (Trap crop) যেমন শন পাট, সরিষা, কুসুম ফুলের চাষ।

-

 

১৮।ছত্রাক নাশকের কার্যকারিতা মুল্যায়ন-১৮৩

বিভিন্ন রকম ছত্রাক দমন,  শিকড় গিট রোগে ২টি ছত্রাক নাশক যেমন- (ভিটাভেক্স-২০০, ডাইথেন এম-৪৫), একটি নিমাটিনাইড (ফোরাডান) ও মোজাইক দমনে কার্যকরী একটি কীটনাশক (ডায়াজিনন) মুল্যায়ন।&

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

১৯।প্রাকৃতিক উপায়ে পাটের সাদা মাকড়  দমন-১৯৯২

নিমের পাতার নির্যাস ১ঃ২০ অনুপাতে পানির দ্রবন/মিশ্রন ব্যবহার।

-

 

২০। কীটনাশকের কার্য কারীতা ১৯৭০-২০০২

বিছাপোকা, চেলে পোকা, উড়চুঙ্গা, ঘোড়া পোকা দমনে কার্যকরী ২৩টি কীটনাশক কৃষক পর্যায়ে ব্যবহারের অনুমোদন এবং সাদা মাকড়  দমনে ১৫টি কীটনাশকের অনুমোদন

-

 

২১। পতঙ্গঁভুক পাখি দ্বারা পোকা দমন

শালিক, ফিংগে এবং ময়না জাতীয় পাখিগুলো ঘোড়া পোকা খেয়ে থাকে। বাঁশ বা গাছের ডাল পুঁতে এদের বসার ব্যবসহা করলে পোকা খেয়ে ফসল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

-

 

২২। পরজীবি পোকা       দ্বারা পোকা  দমন

পরজীবি পোকা দ্বারা পাটের বিছা পোকা  দমনে ব্যবহৃত হচেছ।

-

 

২৩। আগাম তোষা পাট রোপা আমন গম ফসল চক্র-১৯৯৪

পাট-রোপা আমন-গম এই ফসল চক্রে তোষা পাটের আগাম বপনযোগ্য জাত সমুহ (ওএম-১ এবং ও-৯৮৯৭) চাষ করলে রোপা আমন চাষের জন্য অধিক সময় পাওয়া যায়। এছাড়া তোষা পাটের আগাম জাতসমুহ চাষ করলে তোষা পাটের নাবী জাত (ও-৪) থেকে তিন ফসলী ফসল চক্রে অধিক আয় হয়।

-

 

২৪। সম্প্রতি উদ্ভাবিত দেশী পাট-রোপা আমন-গম ফসল চক্র-১৯৯৫

সম্প্রতি উদ্ভাবিত দেশী জাতসমুহ (বিজেসি-৭৩৭০, বিজেসি-৮৩) চাষ করলে পরবর্তী ফসল হিসাবে রোপা আমন চাষ করার জন্য অনেক সময় পাওয়া যায়। শস্যক্রম পরবর্তী ফসল গম চাষে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। তিন ফসলী শস্যক্রমে সম্প্রতি উদ্ভাবিত জাত সমুহ ব্যবহার করলে তুলনামুলকভাবে দেশী পাটের অন্যান্য জাত অপেক্ষা অধিক আয় হয়

-

 

২৫। আগাম বপনযোগ্য তোষা জাত ও-৭২ দ্বি ফসল/ত্রি-ফসল চক্রে অমতর্ভুক্তি

তোষা পাট (ও-৭২) ১৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের ১ম সপ্তাহ পর্যমত বপন করা যায়। কিমতু দেখা গেছে এপ্রিলে বপন করলে মার্চ মাসে বপনের তুলনায় অধিক ফলন পাওয়া যায়। বপন সময়ের ব্যাপ্তির কারনে এ জাতটি দ্বি-ফসল/ত্রি-ফসল বিন্যাসের জন্য বেশ উপযোগী

-

 

২৬। উন্নত পদ্ধতিতে পাট পচন প্রক্রিয়া ১৯৬৭

সঠিক সময়ে পাট কাটা, মোটা ও চিকন গাছ বাছাই করণ, পাতা ঝরানো, গোড়া ডুবানো বা গোড়া থেতলানো, পানি নির্বাচন, জাক ডুবান, পচন সমাপ্তি নির্ণয়, আঁশ ছাড়ান ও আঁশ ধৌতকরণ ইত্যাদি স্তরসমুহ অনুসরণে উন্নত আঁশ পাওয়া সম্ভব।

-

 

২৭।  কাঁচা পাটের ছালকরণ ও ছাল পচন পদ্ধতি-১৯৮০-২০০২

বাuঁশর হুকের মাধ্যমে কাঁচা পাট গাছ থেকে ছাল পৃথককরণ এবং ছালসমুহ অল্প পানিতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে পচানোর মাধ্যমে উন্নতমানের পাট আঁশ উৎপাদন।।

-

 

২৮। অল্প পানিতে ছাল পচানোঃ

       ১৯৮০-২০০০

পানির অভাবযুক্ত স্থানে পলিথিন আবৃত গর্তে এবং পুকুরে কম গভীরতা সম্পন্ন অল্প পানিতে ছাল পচিয়ে উন্নত মানের আঁশ উৎপাদন ।

-

 

২৯। ছত্রাকের মাধ্যমে পাটের শুকানো ছাল পচানো-৮০

ছত্রাকের মাধ্যমে অতি সামান্য পানি ব্যবহার করে অল্প সময়ে পাটের শুকনো ছাল ভাল আঁশ তৈয়ারকরণ।

-

 

৩০। পাট আঁশের কাটিংস নরম করণ /দুরীকরণ-১৯৮৭

বিভিন্নভাবে পাট পচন ও আঁশ ছাড়ানোর মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে পাট এর কাটিংস কমানো/নরমকরণ।

-

 

৩১। বদ্ধ পানিতে সমন্বিত পাট পচন ও মৎস চাষ্য চাষ-১৯৯০-২০০০

একই পুকুরে মৎস্য চাষের সাথে পাট পচানোর ব্যবস্থা। এ পদ্ধতিতে মাছের বৃদ্ধি ও জীবনধারন কোন কোন প্রকারে ব্যহত হয় না।

-

 

৩২। পাট পচন পানি সার হিসেবে ব্যবহার

পাট পচন পানি নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশ সমৃদ্ধ সার। তাই একে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে ধানক্ষেত ও শাকসবব্জী চাষে ব্যবহার করা যায়।

-

 

৩৩।  উন্নত পদ্ধতিতে পাট-রোপা আমন-গম চাষু ১৯৯৩

একই প্রযyুক্ত কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক আয় বৃদ্ধি করে।

-

 

৩৪। পাট-মুলা-  লালশাক-আলু মিষ্টি কুমড়া শস্যক্রম-৯৬

সনাতন পদ্ধতিতে দুই ফসলের স্থলে (পাট-আলু) ৫টি শস্য উৎপাদন করা যায়।

-

 

৩৫। পাট-রোপা আমন-আলু + ডাটা উন্নত শস্যক্রম - ৯৬

এ পদ্ধতিতে ডাটা একটি নতুন ফসল হিসেবে শস্যক্রমে অমতর্ভুক্ত হয়েছে।

-

 

                               

Share with :
Facebook Facebook