মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫

কৃষি গবেষণার অর্জন

Agriculture Wing Achivement

  

 ) পাটের কৃষি গবেষণাঃ

 প্রতি হেক্টরে নির্ধারিত সময়ে অধিক, উন্নত মানের পাট এবং এ জাতীয় ফসলের আঁশ উৎপাদন, প্রামিতক এবং অপ্রচলিত (লবনাক্ত, পাহাড়ী, চরাঞ্চল) জমিতে আবাদোপযোগী উন্নত তোষা, দেশী, কেনাফ ও মেস্তা জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে, দেশে পাট আবাদী জমির পরিমাণ কম এবং ক্রমাগত প্রামিতক, নিকৃষ্ট জমিতে পাট আবাদ স্থানামতরিত হলেও জাতীয় গড় উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সময়োপযোগী তোষা পাট জাত উদ্ভাবন করার ফলে দেশে সাদা ও তোষা পাটের উৎপাদন হার যথাক্রমে ৭০ঃ ৩০ এর স্থলে বর্তমানে তা প্রায় ৩০ ঃ ৭০ অনুপাতে এসে দাঁড়িয়েছে। 

ক্রমাগত জমির জৈব উপাদানের ঘাটতি, জমির উর্বরতা শক্তির ক্রম হ্রাসকে মোকাবিলা করার জন্য প্রচলিত  মাত্রায় সার ব্যবহারের পরিবর্তে জাত ও জমি ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সারের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং হচেছ।একাদিক্রমে এক ধরনের ফসল আবাদ করে জমির পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করা এবং একই ধরনের রোগ বালাইয়ের প্রাচুর্য দমন করার জন্য ফসল ক্রমের উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। ফসল নিবিড়তা বৃদ্ধি করে প্রতি হেক্টর জমিতে অধিক ফসল ফলানো ও মুনাফা অর্জনের জন্য কৃষক পর্যায়ে পাট ভিত্তিক শস্য পর্যায়ক্রম উদ্ভাবন এবং প্রয়োগ করা হয়েছে। 

বাংলাদেশে পাট পচনের সময় প্রায় সকল পাট আবাদী এলাকায় পানির তীব্র অভাব দেখা দেয়। ফলে কৃষক উন্নত জাতের পাট উৎপাদন করলেও পচন পানির অভাবে নিম্মমানের পাট উৎপাদিত ও বাজারজাত হচেছ। এ অবস্থা নিরসনকল্পে স্থানোপযোগী এবং স্বল্প পানিতে পচানোর জন্য উন্নত পাট পচন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। সরাসরি পাট গাছ পচানো, পাটের ছাল পৃথক করে পচানো এবং একামতই পানি না থাকলে বা উৎপাদন অধিক হলে পৃথককৃত বাকল শুকিয়ে সংরক্ষন এবং পরবর্তী সময়ে তা পচিয়ে উন্নত আঁশ উৎপাদন প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করা হয়েছে। 

পাটের পোকা মাকড় দমনে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ বান্ধব উদ্ভিজ্জ বা দেশজ প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার কৌশল এবং কীটনাশক উদ্ভাবন করা হয়েছে। 

কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত পাট বীজের সংরক্ষন পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং কৃষকদের সে পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পাট বীজের জন্য পর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে স্বল্পাকারে কৃষক পর্যায়ে পাট বীজ উৎপাদন পদ্ধতি ও নাবী পাট বীজ উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। 

সর্বোপরি পাট চাষ আবাদ লাভজনক করা এবং পরিবেশ বান্ধব এ আঁশ ফসলের আবাদ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এ পর্যমত ৩৬টি দেশী, তোষা, কেনাফ ও মেস্তা জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে যার মধ্যে ৫টি দেশী, ৪টি তোষা, ২টি কেনাফ এবং ১টি মেস্তা পাট জাতের বীজ বানিজ্যিকভাবে উৎপাদিত ও আবাদ হচেছ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাট, বিশেষ করে কেনাফ ও মেস্তা জার্মপ্লাজম সংগ্রহ এবং তা মূল্যায়ন করে উত্তরোত্তর পাট এবং এ জাতীয় আঁশ ফসল উন্নয়ন প্রচেষ্টা চলছে। এর ফলে প্রতিকুল অবস্থা সত্বেও জাতীয় গড় পাট আঁশ উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 

প্রযুক্তির নাম ও ছাড়করনের সময়

গুনাগুন ও বৈশিষ্ট্য

মাঠ পর্যায়ে প্রতিফলন

 

 

 

বিজেআরআই আবিস্কৃত ও জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ছাড়কৃত ৪০টি দেশী ও তোষা পাট, কেনাফ ও মেস্তার উচচ ফলনশীল জাতের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য জাতসমুহের বর্ণনা নিম্মে উপস্থাপন করা হইল। 

১। বিজেআরআই উদ্ভাবিত সাদা বা দেশী পাট (Corchorus capsularis L.)

 

 

ক) ডি-১৫৪(২)

    ১৯৬৭

ডি-১৫৪ জাত থেকে নির্বাচিত হয়েছে (true type)। অনুজ্জ্বল তামাটে লাল, পাতা ডিম্বাকৃতি, উচচ ফলনশীল, বিলম্বে পরিপক্ক। সর্বোচচ ফলন ৪.৮৯ টন/হেক্টর

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

খ) সিভিই-৩

    ১৯৬৭

আগাম পরিপক্ক, অনুজ্জল তামাটে লাল, বয়স্ক গাছের কান্ডে উজ্জল বর্ণ দেখা যায়, পাতা ডিম্বাকৃতি ও লমবাটে (ovate-lanceolate), দ্রুত বর্ধনশীল, তিন ফসলী জমির জন্য উপযোগী, সর্বোচচ ফলন ৪.৫২ টন/হেক্টর।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

গ)  সিভিএল-১ ১৯৭৭

নাবী পরিপক্ক, সম্পুর্ন সবুজ, পাতা ডিম্বাকৃতির, উচচ অভিযোজন ক্ষমতা সম্পন্ন, উচচ ফলনশীল, সর্বাধিক জনপ্রিয় জাত। সর্বোচচ ফলন ৫.৫২ টন/হেক্টর

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

ঘ) সি-৮৩

    ১৯৯৫

সম্পুর্ন দ্রুত বর্ধনশীল এবং আগাম পরিপক্ক জাত, বপনের ৯০-৯৫ দিনের মধ্যে ফুল আসে, পাতা ডিম্বাকৃতির কিমতু সিভিএল-১ এর তুলনায় সরূ, পাতার কিনারা ঢেউ খেলানো, গড় ফলন ২.৫-৩.০ টন/হেক্টর।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

ঙ)  সি-৭৩৭০   ১৯৯৫

হ্রস্ব দিন সহিষ্ণু , আগাম বপন করা যায়, অনুজ্জল তামাটে লাল, নাবী পরিপক্ক, পাতা ডিম্বাকৃতির, গড় ফলন ২.৭৫-৩.২৫ টন/হেক্টর।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

 ২। বিজেআরআই উদ্ভাবিত তোষা পাট (Corchorus olitorius L.) 

 

ক) ও-৪

    ১৯৯৬

সম্পুর্ন সবুজ, কান্ড হালকা সবুজ, পাতা বড় ও লম্বাকৃতি, নাবী পরিপক্ক এবং উচু জমিতে বপনযোগ্য, বীজের রং ধাতব ধুসর, উচচ ফলনশীল, গড় ফলন ৪.৫২ টন/হেক্টর

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

খ) ও-৯৮৯৭

    ১৯৮৭

সম্পুর্ন সবুজ আগাম বপনশীল, মার্চের মাঝামাঝি বপনযোগ্য, পাতা ফলকাকৃতির, বীজের রং ধাতব ধুসর থেকে ধুসর, উচচ ফলনশীল, সর্বোচচ ফলন ৪.৬১ টন/হেক্টর।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

গ)  ওএম-১   ১৯৯৫

সম্পুর্ন সবুজ, আলোক সংবেদনশীলতা কম, আঁশ উন্নতমানের, পাতা লম্বাকৃতির, চওড়া ও চকচকে, বীজের রং বাদামী কালো, গড় ফলন ২.৫-৩.৪ টন/হেক্টর

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

  

৩। বিজেআরআই উদ্ভাবিত কেনাফ (Hibiscus cannabinus L.)

 

ক) এইচসি-২

     ১৯৭৭

পাতা সম্পুর্ন সবুজ, উচু এবং নীচু সব জমিতেই বপন উপযোগী, নেমাটোড প্রতিরোধী জাত। অধিক জৈব ফলনশীল, কাগজের মন্ড উৎপাদনের জন্য উচচ ফলনশীল, সর্বোচচ ফলন ৬.৬৪ টন/হেক্টর

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

খ)  এইচসি-৯৫ ১৯৯৫

 সম্পুর্ন সবুজ, পাতা অঙ্গুলাকৃতির এইচসি-২ এর চেয়ে অধিক নেমাটোড প্রতিরোধী ও অধিক জৈব ফলনশীল, উচু, নীচু, মাঝারী সব জমিতেই বপন উপযোগী, এইচসি-২ এর চেয়ে কমপক্ষে ১০ দিন আগে পরিপক্ক হয়, কাগজ, মন্ড শিল্পের কাঁচা মালের জন্য ১টি উল্লেখযোগ্য জাত, পান ও শাক সব্জি চাষের জন্য আরোহী ও ছায়া প্রদানকারী হিসাবে ব্যবহার করা যায়, আঁশের জন্য গড় ফলন ২.৭৫-৩.৫০ টন/হেক্টর ও ৬০-৮০ টন/হেক্টর (সবুজ কান্ড)

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 বিজেআরআই উদ্ভাবিত মেস্তা (Hibiscus sabdariffa L.) 

)এইচএস-২৪

    ১৯৭৭

কান্ড সবুজ, পর্বে বেগুনী ছোপদাগ আছে, উচচ ফলনশীল, পাতা অঙ্গুলাকৃতি ও সংকীর্ণ, নেমাটোড প্রতিরোধী, চর এলাকার পতিত বেলে জমিতে বপনযোগ্য, সর্বোচচ ফলন ৪.৭০ টন/হেক্টর।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

৫। নাবী পাট বীজ উৎপাদন   প্রযুক্তি ১৯৮৮

এই পদ্ধতিতে পাট মৌসুমের পর ভাদ্র-আশ্বিন মাসে পাট বীজ বপন করে বীজ উৎপাদন করা যায়। এতে বীজের গুনগত মানও ভাল থাকে। বীজের স্বল্পতা বা ঘাটতি পুরনের জন্য এই প্রযুক্তিতে বীজ উৎপাদন বেশ লাভজনক।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

৬। পাট বীজ   সংরক্ষণ প্রযুক্তি

    ১৯৮৩

পাট বীজ সংরক্ষণের তিনটি ধাপ নিম্মরুপঃ

 

1)     বীজ সংগ্রহের পর তা দ্রুত রোদে শুকিয়ে তার আর্দ্রতা দেশী পাট বীজের বেলায় (৮-১০)% এবং তোষা পাট বীজের বেলায় (৬-৮) % এ নামাতে হবে।

2)    সংরক্ষণের পুর্বে হোমাই (০.৩%) থায়োবেনডাজল (০.৬%) দ্বারা বীজ শোধন করতে হবে।

3)    শোধনকৃত বীজ লেমুফয়েল বা বায়ুরোধক টিনের পাত্রে সাধারণ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 ৭।ফসল বপনের সঠিক সময় নির্ধারণ-১৯৮৩

দেশী পাট চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে সারা চৈত্র মাস, তোষা পাট-  সারা বৈশাখ মাস। ও-৯৮৯৭ জাতটি চৈত্র মাসের প্রথম থেকে বপন করা চলে। উল্লেখ্য যে, জাতওয়ারীভাবে নির্ধারিত বপনের সময় না জানলে  গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ব্যাহত হয়।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 ৮। ফসল কাটার উপযুক্ত সময় নির্ধারণ ১৯৯০

বপন সময়ের উপর নির্ভর করে পাট গাছে  সাধারণতঃ ১২০-১৫০দিনে ফুল আসে। সাধারণভাবে পাট গাছে ফুলের কুড়ি আসলেই পাট কাটতে হয়। তবে জমির পরবর্তী ব্যবহার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় বিবেচনার ১০০ দিন বয়স থেকে পাট কাটা চলে। যত আগে কাটা হয় অাঁশের মান তত ভাল হয় ও ১২০ দিনের পরে কাটা হয় আঁশের পরিমান তত বেশী হয়।

মাঠ পর্যায়ে আংশিক গৃহীত

 

৯।  জাতভিত্তিক সারের মাত্র নিরূপন-১৯৮০

 

 ক) জাতঃডি-১৫৪,  সিভিএল-১, সিভিই-৩, ও-৪

১০০+২৫+৪৫+১১কেজি/হেক্টর,ইউরিয়া/টিএসপি/এমপি/   বপনের দিন।

 

 ) জাতঃ ও-৯৮৯৭

২০০+৫০+১০+৪৫+১১কেজি/হেক্টর ইউরিয়া/টিএসপি/ এমপি/ জিপসাম /জিংক সালফেট বপনের দিন 

গ) এইচএসঃ ২৪

১০০+২৫+৩০, ইউরিয়া/ টিএসপি/এমপি কেজি/হেক্টর

 

 ঘ) এইচসি-৯৫

১৩০+২৫+৩০, ইউরিয়া/ টিএসপি/এমপি কেজি/হেক্টর

 

 ঙ) ওএম-১

১৭৫+৫০+৪০+১০০, ইউরিয়া/টিএসপি/এমপি/জিপসাম কেজি/হেক্টর 

১০। নাবী পাট বীজ চাষে ফাল্গুনী তোষা

 জাতের সারের মাত্রা নিরূপন-১৯৯৬

 

১০০+৭৫+১০০, ইউরিয়া/ টিএসপি/ এমপি/ জিপসাম কেজি/ হেক্টর

 

১১।সারের প্রয়োগ পদ্ধতি ও সময়

       ১৯৯১

আঁশ ফলনের জন্য ইউরিয়া সার দুই ভাগে প্রয়োগ করতে হয় এবং অন্যান্য সার বপনের সময় দিতে হবে। নাবী বীজে ইউরিয়া সার তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। টিএসপি, এমপি এবং নাবী বীজে ইউরিয়া সার তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। টিএসপি, এমপি এবং অন্যান্য সার বপনের সময় দিতে হবে।

 

 

১২। শস্য পর্যায়ে সারের মাত্রা নিরূপন ১৯৯৬

ক) গম-পাট-ধান শস্য পর্যায়ে পাটের সারের পরিমান ২২০+২৫+৬০+১০০কেজি/হেক্টর

     ইউরিয়া/টিএসপি/এমপি/ জিপসাম।

মাঠ পর্যায়ে গ্রহনযোগ্য

 

খ) আলু-পাট-ধান শস্য পাটের সারের পরিমান ২২০+২৫ +৬০ +১০০ কেজি/হেক্টর, ইউরিয়া/টিএসপি/এমপি/জিপসাম।

-

 

গ) সরিষা-পাট-ধান শস্য পর্যায়ে পাটের সারের পরিমান ২২০+২৫+৪০+১০০ কেজি/হেক্টর,  ইউরিয়া/টিএসপি/এমপি /জিপসাম।

-

 

ঘ) বাদাম-পাট-ধান শস্য পর্যায়ে  পাটের সারের পরিমান ২২০+২৫+৬০+১০০ কেজি/হেক্টর, ইউরিয়া/টিএসপি/এমপি/ জিপসাম।

-

  জাতভিত্তিক সারের মাত্রা ২০০২ পর্যমত :

 

   জৈব সারবিহীন

 

ক)  জাত : ডি-১৫৪, সিভিএল-১, সিভিই-৩ ও তোষাজাত ও-৪ 

১৬৬ + ২৫ + ৩০ + ৪৫ + ১১ কেজি/হেক্টর, ইউরিয়া/ টিএসপি/এমপি/ জিপসাম/জিংক সালফেট।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

খ)  ও- ৯৮৯৭

২০০ + ৫০ + ৬০ + ৯৫ + ১১ কেজি/ হেক্টর, ইউরিয়া/ টিএসপি/ এমপি/ জিপসাম/ জিংক সালফেট।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

গ)  ওএম- ১

১৭৬ + ৫০ + ৪০ + ৯৫ + ১১ কেজি/ হেক্টর, ইউরিয়া/ টিএসপি/ এমপি/ জিপসাম/ জিংক সালফেট

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

ঘ)  ও- ৭২

১৬৬ + ৫০ + ৮০ + ১০০ কেজি/ হেক্টর,

 ইউরিয়া/ টিএসপি/ এমপি/ জিপসাম।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

ঙ)  কেনাফ: এইচ সি- ৯৫

১৩২ + ২৫ + ৪০ কেজি/ হেক্টর,

 ইউরিয়া/ টিএসপি/এমপি।

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

চ)  মেস্তা : এইচএস- ২৪

১১০ + ২৫ + ৩০ কেজি/ হেক্টর ইউরিয়া- টিএসপি- এমপি

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

 

(ii) জৈব সারসহ (গোবর সার) : 

 

ক)  জাত : ডি- ১৫৪, সিভিএল-১, সিভিই- ৩ এবং তোষাজাত ও- ৪ 

 ১১৫  কেজি/হেক্টর, ইউরিয়া অন্যান্য সারের প্রয়োজন নাই।

 

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

খ)  ও- ৯৮৯৭

১৪৫+১০+৫০ কেজি/হেক্টর,ইউরিয়া/এমপি/ জিপসাম

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

গ)  ওএম- ১

১২০ + ৫০  কেজি/ হেক্টর, ইউরিয়া/জিপসাম

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

ঘ)  ও- ৭২

১১০+৩০+১০০ কেজি/হেক্টর,ইউরিয়া/এমপি/জিপসাম

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

ঙ)  কেনাফ: এইচ সি- ৯৫

৭৭ কেজি/হেক্টর ইউরিয়া অন্যান্য সারের প্রয়োজন নাই

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

চ)  মেস্তা : এইচ এস- ২৪

৫৫ কেজি/হেক্টর ইউরিয়া অন্যান্য সারের প্রয়োজন নাই  

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

 

নাবী পাট বীজ (জাত : - ৯৮৯৭) :  

 

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা

(কেজি/হেক্টর)

সারের মাত্রা (কেজি/হেক্টর) :

 

ইউরিয়া

টিএসপি

এমপি

জিপসাম

জিংক সালফেট

বোরাক্স

 

উচচ ফলন (৬০০-৯০০)

২০০

১০০

৪০

১০০

২২

১০

 

মধ্যম ফলন (৪০০-৬০০)

১১০

৭৫

২০

১০০

-

-

 

নিম্ন ফলন (২৫০-৪০০)

৫০

২৫

২০

-

-

-

 

 ১৩।  রসুনের পেষ্ট দ্বারা বীজ শোধন-১৯৮৪

 পাট বীজ শোধনে ও চারা মোড়ক রোগ দমনে ব্যবহার। ১২৫ গ্রাম রসুনের পেষ্ট/১০০০ গ্রাম বীজ।

-

 

১৪। রোগ  দমনে ব্যবহৃত ছত্রাক নাশকের মুল্যায়ন ১৯৭৮

 পাট বীজ শোধনে ভিটাভেকা্র ২০০ (০.৮%) এবং বিভিন্ন প্রকার ছত্রাক দমনে ছত্রাক নাশক ডাইমেন এম-৪৫, পাটের শিকড়ে গিট রোগ দমনে একটি নিমাটিসাইড ফুরাডান (৫জি) ও লীফ মোজাইক দমনে কার্যকরী ১টি কীটনাশক (ডায়াজিনন) ব্যবহারের অনুমোদন।

-

 

১৫। ভেষজ উদ্ভিদের দ্বারা বীজ শোধন ১৯৮৪

পাট বীজ শোধনে ও চারা মড়ক রোগ দমনে কাঁচা রসুন বাটা (১২.৫%) অর্থাৎ ১২৫ গ্রাম জেএম রসুনের পেষ্ট ১ কেজি  বীজের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা।

    -

 

১৬। গিট রোগ দমনে জৈব সার প্রয়োগ ২০০০

পাট ফসলের শিকড়ে গিট রোগ দমনের জন্য জৈব সার যেমন হাঁস মুরগীর বিষ্ঠা (poultry litter) ১০০০ কেজি/হেক্টর দ্বারা মাটি শোধন

-

 

১৭। গিট রোগ দমনে ফাঁদ ফসল এর চাষ       (১৯৭৮-২০০১)

শিকড়ে গিট রোগ দমনের উদ্দেশ্যে মিশ্র ফাঁদ ফসল (Trap crop) যেমন শন পাট, সরিষা, কুসুম ফুলের চাষ।

-

 

১৮।ছত্রাক নাশকের কার্যকারিতা মুল্যায়ন-১৮৩

বিভিন্ন রকম ছত্রাক দমন,  শিকড় গিট রোগে ২টি ছত্রাক নাশক যেমন- (ভিটাভেক্স-২০০, ডাইথেন এম-৪৫), একটি নিমাটিনাইড (ফোরাডান) ও মোজাইক দমনে কার্যকরী একটি কীটনাশক (ডায়াজিনন) মুল্যায়ন।&

মাঠ পর্যায়ে গৃহীত

 

১৯।প্রাকৃতিক উপায়ে পাটের সাদা মাকড়  দমন-১৯৯২

নিমের পাতার নির্যাস ১ঃ২০ অনুপাতে পানির দ্রবন/মিশ্রন ব্যবহার।

-

 

২০। কীটনাশকের কার্য কারীতা ১৯৭০-২০০২

বিছাপোকা, চেলে পোকা, উড়চুঙ্গা, ঘোড়া পোকা দমনে কার্যকরী ২৩টি কীটনাশক কৃষক পর্যায়ে ব্যবহারের অনুমোদন এবং সাদা মাকড়  দমনে ১৫টি কীটনাশকের অনুমোদন

-

 

২১। পতঙ্গঁভুক পাখি দ্বারা পোকা দমন

শালিক, ফিংগে এবং ময়না জাতীয় পাখিগুলো ঘোড়া পোকা খেয়ে থাকে। বাঁশ বা গাছের ডাল পুঁতে এদের বসার ব্যবসহা করলে পোকা খেয়ে ফসল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

-

 

২২। পরজীবি পোকা       দ্বারা পোকা  দমন

পরজীবি পোকা দ্বারা পাটের বিছা পোকা  দমনে ব্যবহৃত হচেছ।

-

 

২৩। আগাম তোষা পাট রোপা আমন গম ফসল চক্র-১৯৯৪

পাট-রোপা আমন-গম এই ফসল চক্রে তোষা পাটের আগাম বপনযোগ্য জাত সমুহ (ওএম-১ এবং ও-৯৮৯৭) চাষ করলে রোপা আমন চাষের জন্য অধিক সময় পাওয়া যায়। এছাড়া তোষা পাটের আগাম জাতসমুহ চাষ করলে তোষা পাটের নাবী জাত (ও-৪) থেকে তিন ফসলী ফসল চক্রে অধিক আয় হয়।

-

 

২৪। সম্প্রতি উদ্ভাবিত দেশী পাট-রোপা আমন-গম ফসল চক্র-১৯৯৫

সম্প্রতি উদ্ভাবিত দেশী জাতসমুহ (বিজেসি-৭৩৭০, বিজেসি-৮৩) চাষ করলে পরবর্তী ফসল হিসাবে রোপা আমন চাষ করার জন্য অনেক সময় পাওয়া যায়। শস্যক্রম পরবর্তী ফসল গম চাষে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। তিন ফসলী শস্যক্রমে সম্প্রতি উদ্ভাবিত জাত সমুহ ব্যবহার করলে তুলনামুলকভাবে দেশী পাটের অন্যান্য জাত অপেক্ষা অধিক আয় হয়

-

 

২৫। আগাম বপনযোগ্য তোষা জাত ও-৭২ দ্বি ফসল/ত্রি-ফসল চক্রে অমতর্ভুক্তি

তোষা পাট (ও-৭২) ১৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের ১ম সপ্তাহ পর্যমত বপন করা যায়। কিমতু দেখা গেছে এপ্রিলে বপন করলে মার্চ মাসে বপনের তুলনায় অধিক ফলন পাওয়া যায়। বপন সময়ের ব্যাপ্তির কারনে এ জাতটি দ্বি-ফসল/ত্রি-ফসল বিন্যাসের জন্য বেশ উপযোগী

-

 

২৬। উন্নত পদ্ধতিতে পাট পচন প্রক্রিয়া ১৯৬৭

সঠিক সময়ে পাট কাটা, মোটা ও চিকন গাছ বাছাই করণ, পাতা ঝরানো, গোড়া ডুবানো বা গোড়া থেতলানো, পানি নির্বাচন, জাক ডুবান, পচন সমাপ্তি নির্ণয়, আঁশ ছাড়ান ও আঁশ ধৌতকরণ ইত্যাদি স্তরসমুহ অনুসরণে উন্নত আঁশ পাওয়া সম্ভব।

-

 

২৭।  কাঁচা পাটের ছালকরণ ও ছাল পচন পদ্ধতি-১৯৮০-২০০২

বাuঁশর হুকের মাধ্যমে কাঁচা পাট গাছ থেকে ছাল পৃথককরণ এবং ছালসমুহ অল্প পানিতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে পচানোর মাধ্যমে উন্নতমানের পাট আঁশ উৎপাদন।।

-

 

২৮। অল্প পানিতে ছাল পচানোঃ

       ১৯৮০-২০০০

পানির অভাবযুক্ত স্থানে পলিথিন আবৃত গর্তে এবং পুকুরে কম গভীরতা সম্পন্ন অল্প পানিতে ছাল পচিয়ে উন্নত মানের আঁশ উৎপাদন ।

-

 

২৯। ছত্রাকের মাধ্যমে পাটের শুকানো ছাল পচানো-৮০

ছত্রাকের মাধ্যমে অতি সামান্য পানি ব্যবহার করে অল্প সময়ে পাটের শুকনো ছাল ভাল আঁশ তৈয়ারকরণ।

-

 

৩০। পাট আঁশের কাটিংস নরম করণ /দুরীকরণ-১৯৮৭

বিভিন্নভাবে পাট পচন ও আঁশ ছাড়ানোর মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে পাট এর কাটিংস কমানো/নরমকরণ।

-

 

৩১। বদ্ধ পানিতে সমন্বিত পাট পচন ও মৎস চাষ্য চাষ-১৯৯০-২০০০

একই পুকুরে মৎস্য চাষের সাথে পাট পচানোর ব্যবস্থা। এ পদ্ধতিতে মাছের বৃদ্ধি ও জীবনধারন কোন কোন প্রকারে ব্যহত হয় না।

-

 

৩২। পাট পচন পানি সার হিসেবে ব্যবহার

পাট পচন পানি নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশ সমৃদ্ধ সার। তাই একে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে ধানক্ষেত ও শাকসবব্জী চাষে ব্যবহার করা যায়।

-

 

৩৩।  উন্নত পদ্ধতিতে পাট-রোপা আমন-গম চাষু ১৯৯৩

একই প্রযyুক্ত কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক আয় বৃদ্ধি করে।

-

 

৩৪। পাট-মুলা-  লালশাক-আলু মিষ্টি কুমড়া শস্যক্রম-৯৬

সনাতন পদ্ধতিতে দুই ফসলের স্থলে (পাট-আলু) ৫টি শস্য উৎপাদন করা যায়।

-

 

৩৫। পাট-রোপা আমন-আলু + ডাটা উন্নত শস্যক্রম - ৯৬

এ পদ্ধতিতে ডাটা একটি নতুন ফসল হিসেবে শস্যক্রমে অমতর্ভুক্ত হয়েছে।

-

 

                               

 

৩৬পাটের জীবন রহস্য (Genome sequencing) উন্মোচনঃ

জীব প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাটের জীবন রহস্য (Genome sequencing) উন্মোচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার কৃষি ক্ষেত্রে গবেষণায় যুগামত্মকারী সাফল্য অর্জন  করেছে, যাহা ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিগত ১৬-০৬-২০১০ ইং তারিখে মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে পুরো জাতি তথা বিশ্বকে অবহিত করেছেন এবং গত ২৬-০৯-২০১০ইং তারিখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত ভাষণে উল্লেখ করেছেন। এখানে উল্লেখ করা যায় যে কোন ফসলের জীবন রহস্য উন্মোচন স্বল্পোন্নত দেশ সমূহের মধ্যে এটিই প্রথম এবং সারা বিশ্বে ১৭তম। উক্ত আবিষ্কারের ফলে পাটের বিভিন্ন প্রতিকূলতা (Stress) সহনশীল (লবনাক্ততা, খরা, বিভিন্ন পোকা-মাকড় ও রোগ-জীবানু সহনশীল ইত্যাদি) উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ৬৫৯৩.০০ লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ২৫% জমি লবনাক্ততার কারণে পতিত থাকে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের একটি ব্যাপক এলাকা খরা প্রবন। প্রকল্পটি সফল ভাবে বাসত্মবায়ন করা সম্ভব হলে ঐ সকল পতিত জমিতে পাট চাষ সম্প্রসারণ করা সম্ভব হইবে। ফলে পতিত/ব্যবহার অনুপযোগী জমি আবাদের আওতায় আসবে।

 

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক আবিস্কৃত কৃষক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করা ১৬টি (৬টি দেশী পাট, ৫টি তোষা পাট, ৩টি কেনাফ ও ২টি মেস্তা) পাট, কেনাফ ও মেস্তার উন্নত জাত সমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

 জাতের নাম

অবমুক্তির সন

বপনের উপযুক্ত সময়

সবের্বাচচ ফলন (টন/হেক্টর)

 


Share with :